
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, জেলার ৮টি আসনের মধ্যে ৭টিতে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীরা এবং একটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল নিশ্চিত করা হয়।
ঘোষিত ফলাফলে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির ফকির মাহবুব আনাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহেল কাফী পান ৯৪ হাজার ৪৬২ ভোট। একই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৫০৬টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৯২ হাজার ৮৭৮টি।
টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসনে বিএনপির আব্দুস সালাম পিন্টু ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের হুমায়ুন কবির পান ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট। এ আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৬০টি এবং ‘না’ ভোট ৭৪ হাজার ৮৭৫টি।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে ব্যতিক্রমী ফল দেখা যায়। এখানে স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ মোটরসাইকেল প্রতীকে ১ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির এস এম ওবায়দুল হক নাসির পান ৮২ হাজার ৭৬৯ ভোট। গণভোটে এ আসনেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যবধান ছিল উল্লেখযোগ্য—১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩ ভোট।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির লুৎফর রহমান মতিন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী পান ৬২ হাজার ৫০৯ ভোট। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ২১০টি।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির সুলতান সালাহউদ্দিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতের আহসান হাবিব মাসুদ পান ৮০ হাজার ২৮৩ ভোট এবং বিদ্রোহী প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল পান ৬৯ হাজার ৪০৮ ভোট। এ আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৩টি।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে বিএনপির রবিউল আওয়াল লাভলু ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৫২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াতের এ কে এম আব্দুল হামিদ পান ৯১ হাজার ৯১৪ ভোট।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বিএনপির আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ১ লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) আসনে বিএনপির আহমেদ আযম খান ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন আলমগীর রাসেল পান ৭৭ হাজার ১৩০ ভোট।
জেলার সবকটি আসনে গণভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সামগ্রিক ফলাফলে টাঙ্গাইলে বিএনপির শক্ত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে, পাশাপাশি একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মন্তব্য করুন