
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এক অনন্য রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের দৃশ্য দেখা গেছে। বিজয়ী প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ-কে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন পরাজিত প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক। রাজনৈতিক অঙ্গনে যেখানে নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা প্রায়ই আলোচনায় থাকে, সেখানে এই ঘটনাটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আবু সাঈদ চাঁদ সলুয়া ইউনিয়নের চামটা গ্রামে নাজমুল হকের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি আন্তরিকভাবে তাকে বরণ করে নেন। সাক্ষাৎকালে নাজমুল হক বিজয়ী প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানান। পুরো ঘটনাটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন।
পরে ‘ছোট ভাই নাজমুলের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ’ শিরোনামে আবু সাঈদ চাঁদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মালা পরানোর একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেক নেটিজেন দুই প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধের প্রশংসা করেন।
রহিদুল ইসলাম নাহিদ নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, রাজনীতিতে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক এবং এটিই গণতন্ত্রের নিয়ম। ফলাফল ঘোষণার পর হিংসা-বিদ্বেষে না জড়িয়ে পরস্পরকে সম্মান জানানোই প্রকৃত নাগরিক সচেতনতার পরিচয়। তিনি আরও লেখেন, জয়ী হলে অহংকার না করা এবং পরাজিত হলেও হতাশা বা প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব না পোষণ করে দেশের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতাই রাজনীতির সৌন্দর্য।
শামসুদ্দিন রিন্টু নামে আরেকজন মন্তব্যকারী লেখেন, এমন দৃশ্য রাজনীতির ইতিবাচক দিক তুলে ধরে এবং অন্য নেতাদের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে। শাহিদুল ইসলাম সজিবও মন্তব্য করেন, এই সম্প্রীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চারঘাট-বাঘার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ৫৫ হাজার ৭০৭ ভোটের ব্যবধানে আবু সাঈদ চাঁদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যক্ষ নাজমুল হক পান ৯২ হাজার ৯৬৫ ভোট। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন (লাঙ্গল) ১ হাজার ৬২৮ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুস সালাম সুরুজ (হাতপাখা) ২ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী জামানত হারান।
এই আসনে মোট ১১৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়—এর মধ্যে বাঘায় ৬১টি এবং চারঘাটে ৫৮টি। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৯ জন; এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৬ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯১১ জন।
রাজশাহী-৬ আসনের এই ঘটনা প্রমাণ করেছে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে গণতান্ত্রিক চর্চা সম্ভব। নির্বাচন-পরবর্তী এই ইতিবাচক বার্তা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মন্তব্য করুন