
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে জামায়াতের চারটি বাড়ী, দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিয়ন জামায়াতের অফিসে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এ ঘটনায় দুই নারী আহত হন এবং দুই বিএনপি কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
জামায়াত কর্মী জহিরুল ইসলাম দুলাল বাদী হয়ে পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান কালামকে প্রধান আসামী করে মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে কাঠালিয়া থানায় মামলা (নং ০৬) দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলার পাটিখালঘাটা গ্রামের জামায়াতে ইসলামী সমর্থক সাবেক অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের বাড়ী, তার ভাই মরিচবুনিয়া গ্রামের কামাল জমাদ্দারের বাড়ীতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা হারুন অর রশিদের কুড়ের কুটে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলায় কামাল জমাদ্দারের স্ত্রী রানু বেগম (৫৬) এবং মেয়ে সাবিনা (৩০) আহত হন।
সংঘর্ষে আরও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে স্থানীয় শিক্ষক মোস্তফা মাস্টারের বাড়ী ও বর্তমান ইউপি সদস্য মোঃ রিপনের বাড়ীতে। এছাড়া, পাটিখালঘাটা বাজারের ঔষুধ ব্যবসায়ী দুলালের ফার্মেসি এবং আব্দুর রবের চায়ের দোকানেও হামলা চালানো হয়। পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন জামায়াত অফিসেও হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ ফুয়াদ জমাদ্দার (৪২) ও ছাত্রদল নেতা জনি হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবু নাছের রায়হান জানান, “মামলার ভিত্তিতে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্বাচনী উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
ঝালকাঠিতে রাজনৈতিক সহিংসতার এই ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনভর তৎপর ছিল। ঘটনার প্রভাব এলাকায় বেশ দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং এলাকার সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন