
বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের শেলার চরে গভীর রাতে বনদস্যুদের হানায় ছয় জেলে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর একদল অস্ত্রধারী সদস্য জেলেপল্লীতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জেলেদের তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শেলারচরসহ আশপাশের শুঁটকি উৎপাদনকারী চরের জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপহৃত জেলেরা হলেন—খাইরুল ইসলাম (৩৫), ফারুক হোসেন (২৮), শামসুল ইসলাম (২৫), সফরুল ইসলাম (৩২), মারুফ হোসেন (২৮) ও মিলন (৩০)। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা এবং বাগেরহাটের রামপাল ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চর বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দস্যুরা জেলেদের জিম্মি করে একটি ট্রলারসহ ছয়জনকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বনবিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
বন কর্মকর্তা আরও জানান, চলতি মৌসুমে শেলারচরে ৮০১ জন জেলে নিয়মিত শুঁটকি উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অধিকাংশ জেলে ও মহাজন নিজ নিজ এলাকায় ভোট দিতে চলে যাওয়ায় চরের বেশিরভাগ অংশ প্রায় জনশূন্য ছিল। পাহারার দায়িত্বে অল্পসংখ্যক জেলে অবস্থান করায় দস্যুরা সুযোগ নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপহৃত জেলেরা কোন মহাজন বা বহদ্দারের অধীনে কাজ করতেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শেলারচরের মহাজন আরিফুল হক মিঠু বলেন, অতীতে বনদস্যুরা সাগর বা গভীর বনে মাছ ধরার সময় জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করত। কিন্তু এবার তারা টহল ফাঁড়ির নিকটবর্তী জেলেপল্লীতে ঢুকে অপহরণ করেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তিনি সুন্দরবনে পুনরায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালানোর দাবি জানান।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, শুঁটকি পল্লী থেকে জেলে অপহরণের ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে দেখা হচ্ছে না। শেলারচরে অবস্থানরত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার জন্য কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দ্রুত অপহৃতদের উদ্ধার এবং বনদস্যু দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন