
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ নেতারা এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমএ জেলা সভাপতি ডাঃ আলিমুজ্জামান। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, সাংবাদিক ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা গেলেও এখনো তাদের গ্রেফতার করা হয়নি, যা দুঃখজনক।
বিএমএ নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের আইনের আওতায় আনা না হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মিলন ও নূর নামে দুই ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। আহত মিলনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন এবং নূরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রাখা হয়।
পরবর্তীতে রোগীর স্বজনদের মধ্যে ছাত্রদল নেতা ইউসুফসহ কয়েকজন যুবক জরুরি বিভাগে এসে রোগীর অবস্থা জানতে চান। এ সময় চিকিৎসক ডাঃ আসাদুর রহমান তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অভিযোগ অনুযায়ী কয়েকজন যুবক চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয়ে লাঠিসোঁটা ও চেয়ার দিয়ে মারধর করেন। বাধা দিতে গেলে দায়িত্বরত ডিএসবি সদস্য মাইনুল ইসলামকেও লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
আহত চিকিৎসক ডাঃ আসাদুর রহমান বলেন, তিনি তখন মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। ওই সময় কয়েকজন যুবক এসে কথা বলতে চাইলে তিনি তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তবে অভিযুক্ত পক্ষের স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকের অসৌজন্যমূলক আচরণের জেরেই পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কাজী আবু আহসান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন