
শ্যামনগর, সাতক্ষীরা: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও উপকূলবর্তী হাজারো জেলে পরিবার এখনও চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জীবিকার প্রধান উৎস বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।
বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে প্রাকৃতিকভাবে কাঁকড়ার উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বনজ সম্পদ সংরক্ষিত থাকে। তবে এই দীর্ঘ সময়কালে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কয়রা ও আশাশুনি উপজেলার জেলেরা অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, বছরের অধিকাংশ সময় তারা সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জামাল মোল্লা, আনিসুর রহমান, শহিদুল ইসলাম ও হাসন সরদারের মতো জেলারা বলেন, “নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী ও খালে নামতে পারছি না। সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে গেছে। অনেকেই ধারদেনা করে বাজার করছেন, কেউ কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।”
গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকার একাধিক জেলে আরও জানান, “দেড় মাস পার হয়ে গেছে, হাতে কোনো কাজ নেই। সরকারি সহায়তার আশ্বাস পেলেও এখনো অনেকের হাতে পৌঁছেনি।” তারা দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞার সময় অন্তত চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত।
বন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া ধরা বন্ধ রাখা হলে ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবেন। তবে উপকূলবাসীর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সহায়তাও জরুরি।
সচেতন মহল মনে করছেন, সুন্দরবন রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয় হলেও জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, ভিজিএফ বা বিশেষ প্রণোদনা কার্যক্রম না চালালে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
জেলেরা দুশ্চিন্তায় দিন গুনছেন, নিষেধাজ্ঞার বাকি সময়টুকু কিভাবে পার হবে—এটাই তাদের প্রধান চিন্তা। তাদের একটাই প্রত্যাশা, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা। স্থানীয়রা মনে করছেন, বন সংরক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে উপকূলবর্তী জনজীবনের নিরাপত্তা ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।
মন্তব্য করুন