
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ৬৮ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান মামুন ‘ঘোড়া’ প্রতীকে পান ৩৫ হাজার ২২০ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। তিনি মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ২ লাখ ৯ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ পান ৬২ হাজার ৫৪৭ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পান ৯১ হাজার ৭৯৬ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিএনপি প্রার্থী এম এ মান্নান ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ‘ফুটবল’ প্রতীকে পান ৮৪ হাজার ৭০৮ ভোট। এ আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ১ হাজার ৬১ ভোট।
সবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ‘মাথাল’ প্রতীকে ৯৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহসীন পান ৩৯ হাজার ৯৭৬ ভোট।
জেলার ছয়টি আসনের ফলাফলে পাঁচটিতে বিএনপির জয় এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। নির্বাচনকে ঘিরে জেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
মন্তব্য করুন