
কক্সবাজারের রামু উপজেলার মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় এক বাসচালককে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রামু উপজেলার মরিচ্যা চেকপোস্টে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৩০ বিজিবি) রামু ব্যাটালিয়ন।
আটক ব্যক্তির নাম মো. সামসুর রহমান (৩৫)। তিনি উখিয়া উপজেলার ডিগ্রি কলেজ শীলেরছড়া এলাকার মৃত কামাল আহম্মেদের ছেলে বলে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রামু ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদের নির্দেশনায় সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেনের নেতৃত্বে মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে টহল ও তল্লাশি জোরদার করা হয়। এ সময় একটি সন্দেহজনক যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
প্রাথমিকভাবে বাসচালক ইয়াবা বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তল্লাশির একপর্যায়ে বাসের ইঞ্জিন কভারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়।
রামু ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে মাদক পাচার ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে আরও জোরদার করা হবে।”
তিনি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মাদকবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, রামু ব্যাটালিয়ন সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ, আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ ও মাদক পাচার প্রতিরোধে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও আটক আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন ধারাবাহিক অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও সচেতন মহল মনে করছে, মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগও জরুরি।
মন্তব্য করুন