
অর্থের অভাবে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের বই কিনতে না পেরে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিলেন এক শিক্ষার্থী। এমন সংকটময় মুহূর্তে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ। তাঁর আন্তরিক উদ্যোগে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেলেন শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা-র কৃষ্ণপুর এলাকায় অসহায় শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকের হাতে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের প্রয়োজনীয় বই কেনার জন্য অর্থ সহায়তা তুলে দেন এসিল্যান্ড শিবু দাশ। আবু বক্কর সিদ্দিক কৃষ্ণপুর গ্রামের দুদুর মোড় এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক অনটনের কারণে বই কেনা সম্ভব হচ্ছিল না তার পরিবারের পক্ষে। ফলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত সহযোগিতার উদ্যোগ নেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
এ সময় এসি (ল্যান্ড) শিবু দাশ বলেন, “শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। শুধুমাত্র অর্থের অভাবে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থেমে না যায়—এটাই আমার বিশ্বাস। আবু বক্কর সিদ্দিকের মতো অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা চরম কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষার্থী বই কিনতে না পারার কারণে যদি হতাশ হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—সমাজ ও দেশেরও ক্ষতি। আজ হয়তো সামান্য একটি সহযোগিতা, কিন্তু এর মাধ্যমেই একটি ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়। প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তারই উচিত সুযোগের মধ্যে থেকে মানবিক কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া।”
সহযোগিতা পেয়ে আবেগাপ্লুত আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “বই কেনার টাকা না থাকায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে—এই ভয় আমাকে প্রতিদিন তাড়া করছিল। পরিবার থেকেও তেমন সহায়তা পাওয়ার উপায় ছিল না। ঠিক তখন স্যার পাশে দাঁড়িয়েছেন—এটা আমার জন্য কল্পনার বাইরে ছিল।”
তিনি আরও জানান, এই সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, বরং নতুন করে স্বপ্ন দেখার প্রেরণা। ভবিষ্যতে তিনি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত নাগরিক হতে চান এবং অন্য অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং সমাজে মানবিকতার চর্চা আরও জোরদার হবে।
মন্তব্য করুন