
রমজানকে সামনে রেখে হঠাৎ করেই লেবুর বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা–জুড়ে। উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি পিস লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল অনেকটাই সহনীয়। অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সরেজমিনে সদর বাজারসহ উপজেলার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে লেবুর সরবরাহ তুলনামূলক কম। অল্প কিছু বিক্রেতা লেবু বিক্রি করলেও আকারভেদে প্রতি পিস ৪৫–৫০ টাকা দাম হাঁকছেন তারা। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা দরদাম করে ফিরে যাচ্ছেন, ফলে বিক্রিও কমে গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ সংকটের কারণেই দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজার থেকেই এখন প্রতি পিস লেবু কিনতে হচ্ছে প্রায় ৩৫ টাকায়। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ ও সামান্য লাভ যোগ করে খুচরা বাজারে ৪৫–৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।
সদর বাজারের সবজি বিক্রেতা নাজমুল জানান, চাহিদা অনুযায়ী পাইকারি বাজারে লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে, তাই খুচরা দামও বেশি।
ধান্যদৌল বাজারের ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া বলেন, আগে প্রতিদিন দেড় থেকে দুইশ পিস লেবু বিক্রি হতো। এখন দাম বাড়ায় বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেকেই কিনতে এসে দাম শুনে চলে যাচ্ছেন।
ক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে ক্ষোভ। সদর বাজারের ক্রেতা জমির হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগেও হাতের নাগালে ছিল লেবুর দাম। এখন ৫০ টাকা পিস শুনে অবাক হতে হয়েছে। প্রয়োজন থাকায় কম পরিমাণে কিনতে হয়েছে।
ধান্যদৌল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা দুলাল মিয়া বলেন, রোজায় ইফতারে লেবুর শরবত না হলে চলে না। কিন্তু দাম যদি এমনই থাকে, তাহলে বিকল্প ভাবতে হবে।
এ বিষয়ে মাহমুদা জাহান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জানান— লেবুর দাম বৃদ্ধির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। রমজানকে কেন্দ্র করে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোজা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই লেবুর বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়— সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
মন্তব্য করুন