
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একটি ‘মাঠ দিবস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষকদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
আজ দুপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে উপজেলার একটি প্রদর্শনী ক্ষেতে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ জাহাংগীর আলম। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন সময়ের দাবি। কৃষকদের সচেতনতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন সম্ভব এবং এতে উৎপাদন খরচ কমিয়ে অধিক লাভ অর্জন করা যায়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান। তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নিরাপদ সবজি চাষ শুধু বাজারমূল্য বাড়ায় না, এটি ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নিহার রঞ্জন রায় এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রহিম। তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সমাধানমূলক পরামর্শ দেন।
মাঠ দিবসের মূল আকর্ষণ ছিল রঙিন ফুলকপি (জাত: ভ্যালেন্টিনা) চাষের প্রদর্শনী। উন্নত জাতের এই ফুলকপি চাষে সুষম সার ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতি (আইপিএম) এবং জৈব উপাদানের ব্যবহার প্রদর্শন করা হয়। কৃষকদের দেখানো হয় কীভাবে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব।
প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে অনেক কৃষক নতুন এই প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, রঙিন ফুলকপি ও নিরাপদ সবজি চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সরাসরি মাঠে দেখে শেখার সুযোগ তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়েছে। এতে তারা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এ ধরনের চাষাবাদে এগিয়ে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও আয় উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ ধরনের মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে কৃষকদের মাঝে সচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করা হয় এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
মন্তব্য করুন