
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় যাত্রীবাহী গণপরিবহনে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় ওয়াল্টন কারখানার সামনে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে রংপুরগামী ‘নিউ পিংকি’ পরিবহনের একটি বাস গাবতলী থেকে যাত্রী নিয়ে রওনা দেয়। পথে বাসটিতে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) রবিউল ইসলামের নির্দেশে উপপরিদর্শক এসআই সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে একটি অভিযানকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ বাসটিকে থামার সংকেত দেয়। চালক সড়কের পাশে গাড়ি থামানোর পর পুলিশ বাসে তল্লাশি চালায়। এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে দেশীয় তৈরি ছয়টি চাকু উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাসে থাকা রাজু, শরীফুজ্জামান, আলম, জসিম (রাফি), মিলন ও সাইফুলকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
কালিয়াকৈর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) রবিউল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে দেশীয় অস্ত্রসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক জুড়ে বাসে ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য পেতে থানা পুলিশ নিয়মিত চেকপোস্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালাচ্ছে। সম্প্রতি বাসে ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ধরনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এ ধরনের অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষ এখন কিছুটা নিরাপদ বোধ করছে। স্থানীয় বাসযাত্রী ও সাধারণ পথচারীরা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অভিযান চলমান থাকা প্রয়োজন।
থানা পুলিশ আশা করছে, ধ্রুবক নজরদারি ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে কালিয়াকৈর অঞ্চলে ডাকাতি ও সহিংসতা দমন করা সম্ভব হবে এবং বাসযাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা যাবে।
এই অভিযান স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে এবং পুলিশি উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন