
উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলা-এ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কৃষকদের সক্ষমতা বাড়াতে লবণ সহনশীল ফসল ও সবজি চাষ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন এ্যাকশন গাবুরা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি গ্রামে “জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি” প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। প্রকল্পটি কানাডিয়ান দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিনিউ-এর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।
১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত গাবুরা ইউনিয়ন-এর ৫০নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে মোট ২৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন, যার মধ্যে ১৮ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ। উপকূলীয় এলাকায় ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব বিবেচনায় রেখে কৃষিতে টেকসই অভিযোজন কৌশল তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষণে লবণ সহনশীল ধান ও সবজির জাত নির্বাচন, চারা উৎপাদন পদ্ধতি, মাটি ও পানি ব্যবস্থাপনা, জৈব সার ব্যবহার এবং পারিবারিক পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
১৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা। বিশেষ অতিথি ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান। এছাড়া প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার পরিতোষ কুমার বৈদ্য, মিল অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস ও কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর রব কুমার দাস উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি গোলাম মোস্তফা তাঁর বক্তব্যে বলেন, গাবুরা ইউনিয়নে বিভিন্ন সংস্থা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কৃষিতে অভিযোজন বৃদ্ধিতে তিন দিনব্যাপী এমন তথ্যসমৃদ্ধ ও যত্নশীল প্রশিক্ষণ এটাই প্রথম। তিনি ফেইথ ইন এ্যাকশনকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং এ ধরনের যুগোপযোগী উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাবুরায় কাজ করছেন, তবে কৃষিতে অভিযোজন কৌশল নিয়ে এত বিস্তৃত পরিসরে প্রশিক্ষণ আগে দেখেননি। তিনি মনে করেন, এ প্রশিক্ষণ স্থানীয় কৃষকদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের আরও সক্ষম করে তুলবে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও উপকূলীয় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে লবণাক্ততা সত্ত্বেও কৃষি উৎপাদন ও জীবিকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
মন্তব্য করুন