
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর বাজার এলাকায় চুরির সময় হাতেনাতে চারজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে জুলাইপাড়া রাস্তার ব্রিজের পশ্চিম পাশে লোহার সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাজার পাহারাদারদের হাতে প্রথমে এক যুবক ধরা পড়ে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে বাজারের পাহারাদাররা টহল দেওয়ার সময় এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে লোহার মালামাল বহন করতে দেখেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আচরণে অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক যুবক উপজেলার মাঝিকাড়া গ্রামের আমির হোসেন মিয়ার ছেলে মো. রাহিম মিয়া (১৮)।
পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও কয়েকজন সহযোগীর নাম জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন—মোহাম্মদ হাসান মিয়া (২৫), মো. রুবেল মিয়া (২৩) ও মো. সাগর মিয়া (২১)। তাদের বাড়ি নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড়া এলাকায়। আটককৃতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। অপরজন নবীনগরের মাঝিকাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের চেহারার সঙ্গে আগের রাতে উপজেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত চুরির ঘটনায় ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজের মিল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে নূরনগর আইডিয়াল গার্লস স্কুল-এ সংঘটিত চুরির ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহ জোরালো হয়েছে যে, তারা একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য হতে পারে।
প্রাথমিক জবানবন্দিতে আটকরা জানিয়েছে, তারা তিনদিন আগে শিবপুর এলাকার কামাল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসা নেয়। এর আগে তারা মাঝিকাড়া এলাকায় ভাড়া থাকত। আটক ব্যক্তিদের একজন পেশায় রিকশাচালক বলে জানা গেছে। পুলিশ ধারণা করছে, তারা পরিকল্পিতভাবে এলাকায় অবস্থান নিয়ে চুরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
বর্তমানে চারজনকে শিবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে শিবপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি এলাকায় চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। রাতের পাহারা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় জড়িত মূলহোতাদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হলে বাজার এলাকায় চুরির প্রবণতা কমে আসবে এবং ব্যবসায়ীরা স্বস্তি ফিরে পাবেন।
মন্তব্য করুন