
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নওগাঁ-১ আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন। একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ০১ মিনিটে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিনি ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এ সময় পুরো প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত নেতাকর্মীরা ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এমপির সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমন্তপুর ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব মোঃ হেলাল উদ্দিন কাজী, সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ খালেকুজ্জামান মিলন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি জনাব মোঃ আক্তার হোসেন ভুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মোঃ আব্দুস সালাম, মোহাম্মদ নবিজুল ইসলাম (মানিক পাটন), ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা। তাঁদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে তাৎপর্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন কেবল মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই ছিল না, বরং এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও স্বাধিকার আন্দোলনের সূচনা। তিনি বলেন, ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, তাৎপর্য ও চেতনা সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। মাতৃভাষার সঠিক চর্চা, শুদ্ধ ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, একুশের চেতনা আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও সাম্যের পথে এগিয়ে যেতে প্রেরণা জোগায়। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি বাঙালি জাতিকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন।
মন্তব্য করুন