
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার হুজরাপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী উত্তরবঙ্গ বৈষ্ণব সংঘ মন্দিরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের দিকে এক ব্যক্তি মন্দিরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থানরত ভক্ত ও আশপাশের বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।
আটক ব্যক্তি হলেন ১নং কলোনী পাড়ার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. শাকিল হোসেন ওরফে রহেদ হোসেন (৩০)। এ ঘটনায় নিতাই নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
মন্দিরটি ‘শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ্র’ নামে পরিচিত এবং ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠানটির ভূমিদাতা ছিলেন মহন্ত শ্রীক্ষিতীশ চন্দ্র আচারী। এটি রহনপুর, গোমস্তাপুরের মহন্ত এস্ট্রেটের অন্তর্ভুক্ত। মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাতা আচার্য-১০৮ শ্রীল শ্যামকিশোর দাস গোস্বামী মহারাজজী। দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার একটি অংশ মন্দিরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি মন্দিরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছেন। পুলিশ ফুটেজ পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম জানান, “সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
থানা সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা নং-২৭, তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি., ধারা-২৯৫/২৯৫ক/২৯৬/২৯৮/৫০৬(২) পেনাল কোড, ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামি একজন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই পলাশ অধিকারীর ওপর।
ঘটনার পর মন্দির কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সকলকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন