
জ্বালানি সংকট নিরসন ও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বিস্তারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বাজার ফান্ড প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক, পরিবেশবাদী ও নাগরিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
“দশ লাখ রুফটপ সোলার, দশ লাখ কর্মসংস্থান—আমাদের জ্বালানি, আমাদের অধিকার” স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জলবায়ু ঝুঁকি, জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপে এক কঠিন সময় পার করছে। দেশের জ্বালানি খাতের প্রায় ৮৭ শতাংশ এখনও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। আমদানি নির্ভরতার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়ছে চাপ। গত ১৬ বছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধের বিষয়টিও বক্তারা তুলে ধরেন, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
বক্তারা দাবি করেন, দেশের শিল্প ও আবাসিক ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪৬ হাজার ৬৪৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ১ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি পরিবারকে বছরে ২৮ থেকে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সহায়তা করতে পারে। ১০ লাখ রুফটপ সোলার স্থাপন করা হলে বছরে প্রায় ৮ হাজার ৪১৬ থেকে ১০ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব বলে তারা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার নতুন বাজার সৃষ্টি হবে এবং লাখো তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন তরুণ কান্তি চাকমা। বক্তব্য রাখেন পুজগাং মৌজার হেডম্যান এমনি চৌধুরী, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব-এর সহ-সভাপতি মো. জহুরুল আলম, জাবারাং প্রতিনিধি দয়া ময় ত্রিপুরা, আনন্দ’র অধ্যক্ষ শ্যামল রোজারি এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর কো-অর্ডিনেটর নুরুল আলম।
বক্তারা বলেন, পাহাড়ি জনপদকে দূষণমুক্ত ও টেকসই রাখতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। রুফটপ সোলার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরিবেশ দূষণ কমবে, বিদ্যুৎ বিল হ্রাস পাবে এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মানববন্ধন থেকে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়: স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি বা যৌথ উদ্যোগ গঠন; সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার; রুফটপ সোলার স্থাপনে সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা; এবং সরকারি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্থানীয় সরকারের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “সবুজ মাতৃভূমি, স্বপ্নের স্বদেশ—সবুজ জ্বালানি, টেকসই বাংলাদেশ” গড়তে এখনই রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ বাড়ানো সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন