
দুর্গম পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। মানবিক এ উদ্যোগে স্থানীয় দরিদ্র ও অসহায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টায় পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বৌদ্ধ মণিপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নতুন কচুছড়িমুখ পাড়ায় এ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। দুর্গম ও সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকায় নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন। ফলে বিজিবির এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি এনে দেয়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পানছড়ি ব্যাটালিয়নের মেডিকেল অফিসার মেজর নাঈমুল মুশফিক নাঈম, এএমসি ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তিনি বিভিন্ন রোগের উপসর্গ শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন এবং প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থা করেন।
ক্যাম্পে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৩৯ জন স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দা চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। সর্দি-জ্বর, চর্মরোগ, পেটের সমস্যা, অপুষ্টিজনিত জটিলতা ও মৌসুমি নানা রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিয়ে উপকৃত হন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই সেবা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনাও বাহিনীর দায়িত্বের অংশ। দুর্গম এলাকায় বসবাসরত জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজতর করতে নিয়মিতভাবে এমন মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানান। তাদের ভাষ্য, পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। অনেক সময় সামান্য অসুস্থতাও বড় জটিলতায় রূপ নেয়। এ অবস্থায় বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প তাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
এ ধরনের উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাসেবা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুসম্পর্ক গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাহাড়ি অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় সেবার পরিধি বিস্তারে বিজিবির এই মানবিক পদক্ষেপ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুর্গম পানছড়িতে বিজিবির এই সেবামূলক কার্যক্রম স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মানবিক সহায়তার মাধ্যমে সীমান্তরক্ষী বাহিনী যে জনগণের পাশে রয়েছে, এ আয়োজন তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
মন্তব্য করুন