
নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয় থেকে সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন এবং একই গ্রুপের সদস্য ফেরদৌস হোসেন। অপরদিকে সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের সদস্য ওসিবুর মিয়া গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের এবং খলিল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এলাকায় প্রভাব প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে বড়কুলা গ্রামে দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে। এতে ঘটনাস্থলেই রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন এবং ফেরদৌস হোসেন নিহত হন। অপরদিকে প্রতিপক্ষের ওসিবুর মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে আহতদের নড়াইল জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই সংঘাতমুখী হয়ে উঠছিল। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংঘর্ষে একই পরিবারের বাবা-ছেলের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন