
সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের জিনজিরা এলাকায় একটি পোশাক কারখানাকে কেন্দ্র করে ঝুট (কারখানার অবশিষ্ট কাপড়) ব্যবসা নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিতাস গার্মেন্টস নামের একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়রা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেন। পরে তারা সেখান থেকে সরে যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে করে বিরুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী কারখানার সামনে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাদের মধ্যে সাব্বির, শাওন, তুহিনসহ আরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন কারখানার ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কারখানার ঝুট ব্যবসা বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন কারখানায় গিয়ে জড়ো হন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। রোববারের ঘটনাটি সেই বিরোধেরই বহিঃপ্রকাশ। তাদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে এ বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিরুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তুহিন বলেন, তারা ঝুট ব্যবসা দখলের উদ্দেশ্যে কারখানায় যাননি। তার দাবি, মূলত অ্যাকসেসরিজ ব্যবসা সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে সেখানে গিয়েছিলেন। কোনো ধরনের হুমকি বা চাঁদা দাবি করা হয়নি বলেও তিনি জানান। বরং হঠাৎ করেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে তিতাস গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন