
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এলপি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম) গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ বন্ধ থাকার অভিযোগে বাজারে সিলিন্ডার গ্যাস কার্যত উধাও হয়ে গেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠলেও অধিকাংশ দোকানেই মিলছে না কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সরকার ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্য এক হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। পরবর্তীতে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যাতে বাজারে গ্যাসের দাম কমার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং জেলার বিভিন্ন বাজারে দুই হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবুও অনেক ক্ষেত্রে সেই দামেও মিলছে না সিলিন্ডার।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার নেই। ব্যবসায়ীরা জানান, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে নতুন কোনো চালান আসেনি। ফলে তারা গ্যাসশূন্য অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কেউ কেউ বলেন, “তিন হাজার কিংবা পাঁচ হাজার টাকা দিলেও গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব নয়, কারণ মজুতই নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দা কাজল মিয়া বলেন, “অতিরিক্ত টাকা দিলেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় ১৫ দিন ধরে গ্যাস ছাড়া রান্না করছি। চুলায় কাঠ ব্যবহার করতে হচ্ছে।” তার মতো অনেকেই কয়েকটি বাজার ঘুরেও সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দুই হাজার টাকা দিয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনেছেন বলে জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এটি কোনো সিন্ডিকেটের কারসাজি নয়; বরং সরবরাহ ও মজুত সংকটের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানির নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী সরবরাহ হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। বিশেষ করে রমজান মাসকে সামনে রেখে সরবরাহ বাড়ানোর কথা থাকলেও এখনো গ্যাস না আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতে সংকট আরও প্রকট। মফস্বল এলাকার মানুষ বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বাড়ছে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত খরচ।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অফিসের সহকারী পরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—নির্ধারিত মূল্যে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক এবং বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হোক।
মন্তব্য করুন