
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা, পিরোজপুর এলাকায় এক বালু ব্যবসায়ীর ড্রেজারের পাইপ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আল-আমীন হাওলাদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), টুঙ্গিপাড়া উপজেলা, গোপালগঞ্জ এবং পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে নাজিরপুর উপজেলার মালিখালি ইউনিয়নের উত্তর ঝনঝনিয়া (টাওয়ার মোড়) এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ অভিযোগ তোলেন বালু ব্যবসায়ী মো. দীন ইসলাম মোল্লা। তিনি মালিখালি ইউনিয়নের মিঠারকুল গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় বাসিন্দা জাহেদুল হক ফকিরের জমি ভরাটের জন্য ড্রেজার স্থাপন করেন দীন ইসলাম। তিনি মাটিভাঙ্গা ডাকের চর এলাকা থেকে বালু ক্রয় করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জমিতে বালু সরবরাহ করছিলেন।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) কাজ চলাকালে মনিরুজ্জামান, টুঙ্গিপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই), ঘটনাস্থলে এসে ড্রেজার চালাতে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন—এমন অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ড্রেজার খুলে নিতে বলা হয় এবং ব্যবসায়ী কাজ বন্ধ করে ড্রেজার সরিয়ে নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় দেড় ঘণ্টা পর এসিল্যান্ড আল-আমীন হাওলাদার ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজারের পাইপ ভাঙচুর করেন। এ সময় এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তাদের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়। এতে ব্যবসায়ীর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, টুঙ্গিপাড়া প্রশাসন বালু দিয়ে জমি ভরাটে বাধা দিচ্ছে এবং নাজিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন এসিল্যান্ড। ঘুষ দাবির অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই। প্রমাণ দিতে পারলে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, এসিল্যান্ড আল-আমীন হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নাজিরপুরে কোনো অভিযান পরিচালনা করেননি। তিনি জানান, কোথাও বালু দিয়ে জমি ভরাট করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন।
মো. জহিরুল ইসলাম, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জানান, অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য তার কাছে নেই এবং বিস্তারিত জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন