
নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতভর জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. রকিবুল হাসান।
পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে সাবেক দুই চেয়ারম্যানের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সোমবার ভোরে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন—উজ্জ্বল শেখ গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও ভাতিজা ফেরদৌস শেখ। অপরদিকে, প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যা গ্রুপের সদস্য ওসিবুর মিয়া গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—তারাপুর গ্রামের আমিন শিকদারের ছেলে বনি শিকদার (৩৩), বড়কুলা গ্রামের মৃত লালন ফকিরের ছেলে হালিম ফকির (৬০), কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের তুজাম মোল্যার ছেলে তুফান মোল্যা (৩০), তারাপুর গ্রামের রুহুল মোল্যার ছেলে সদয় মোল্যা (৩৬), তৈয়ব শিকদারের ছেলে লাজুক ওরফে সূর্য শিকদার (৩২) এবং সবুর মোল্যার ছেলে জসিম মোল্যা (৩০)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বনি শিকদারকে আটক করে। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ হালিম ফকিরকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ-এর সদর থানা পুলিশ তুফান মোল্যা, সদয় মোল্যা, লাজুক ওরফে সূর্য শিকদার এবং জসিম মোল্যাকে পৃথক অভিযানে আটক করে। আটক ছয়জনকে নড়াইল সদর থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নিহত খলিল শেখ, তাহাজ্জুদ হোসেন ও ফেরদৌস শেখের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপরদিকে, ওসিবুর মিয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন