
দক্ষিণের প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য সুন্দরবন-এ আবারও দস্যু আতঙ্কে থমকে গেছে জনজীবন। বিশেষ করে দুবলার চর, নারকেলবাড়িয়া ও সেলার চর এলাকায় বনদস্যুদের দৌরাত্ম্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ৫০ জনেরও বেশি জেলে কয়েকদিন ধরে বনদস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছেন। মুক্তিপণ হিসেবে মাথাপিছু তিন থেকে চার লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে পরিবারগুলোর অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের অপহরণ করে বনের ভেতর বিভিন্ন খালে নিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আতঙ্কে অনেক জেলে সাগরে পাতানো জাল ফেলে রেখে তীরে ফিরে এসেছেন। ফলে পুরো দুবলার চরজুড়ে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। বনজীবী পরিবারগুলো দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে, আর স্বজনদের মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
সম্প্রতি বন প্রতিমন্ত্রী ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম একটি সভা করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। সভায় বনদস্যু ও জলদস্যুদের দমন এবং আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও মতামত উঠে আসে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে মনে করছেন, কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক কৌশল গ্রহণ না করলে পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন হবে।
সংবাদমাধ্যমে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের খবর প্রকাশিত হয়েছে। বনের খালে খালে সশস্ত্র দ্রুতগামী নৌযানের টহল ও হুটার বাজানোর দৃশ্য দেখা গেছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ ধরনের দৃশ্যমান অভিযানে কতটা বাস্তব ফল মিলছে? কারণ দস্যুরা সাধারণত এমন খালে অবস্থান করে না, আর নৌযানের শব্দ অনেক দূর থেকেই টের পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত দেড় বছরে একাধিক অভিযানে বেশ কয়েকজন দস্যু আটক ও অস্ত্র উদ্ধার হলেও কেন দস্যুতার বিস্তার থামছে না—এ প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, দস্যু দলের সংখ্যা ও অস্ত্রশস্ত্রের মজুত বাড়ছে কীভাবে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
এদিকে, মাঠপর্যায়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতির কারণে বিভ্রান্তিকর সংবাদও ছড়াচ্ছে। অনেক সাংবাদিক সরেজমিনে না গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করায় বাস্তবতার সঙ্গে প্রতিবেদনের অমিল দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনে দস্যুতা শুধু বনজীবী মানুষের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং বনাঞ্চলের প্রাণবৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্যও বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন