
নোয়াখালীর কবিরহাটে তেলবাহী লরির চাপায় নিহত সার ব্যবসায়ী সফিকুর রহমানের মৃত্যুর ছয়দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তাঁর ছোট ছেলে সাইদুর রহমান (২০)। অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে বাবা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল-এর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাইদুর রহমান। তিনি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় রামদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা। সাইদুর নোয়াখালী সরকারি কলেজ-এর অনার্সের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের একজন কর্মী ছিলেন।
এর আগে, গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সোনাপুর থেকে কবিরহাটগামী একটি তেলবাহী ট্রাক ট্রান্সমিটার এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এ সময় দোকানে অবস্থানরত সার ব্যবসায়ী সফিকুর রহমান (৬০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনায় তাঁর দুই ছেলে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মাইজদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সাইদুর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত ঢাকায় রেফার করা হয়। টানা ছয় দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি মারা যান।
নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল জানান, পরিবারটি খুবই সাধারণ ও সৎ ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিল। বাবা-ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত। তিনি বলেন, “একটি দুর্ঘটনা পুরো পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, সাইদুর রহমানের মৃত্যুর খবর তারা বেলা ১১টার দিকে নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন। দুর্ঘটনার ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ঘাতক লরিটি জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে।
এদিকে, একই পরিবারের দুই সদস্যের পরপর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে। স্থানীয়রা সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলে আরও কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
মন্তব্য করুন