
মাগুরায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের (ঈদের চাউল) কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ ১৪ জনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মাগুরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম এবং একই ওয়ার্ডে সাংগঠনিক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আবুল হোসেন আবুর সমর্থকদের মধ্যে চাউলের কার্ড বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় ও ওয়ার্ড কার্যালয়ের ভেতরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সভাপতি তরিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল হোসেন আবুকে ধাক্কা দিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেন। এর জেরে আবুল হোসেন আবুর সমর্থকরা পরে সংঘবদ্ধ হয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওয়ার্ডের শিবরামপুর ও কলকলেপাড়া এলাকার মাঝামাঝি ‘পাখার মাথা’ এলাকায়। সেখানে উভয় পক্ষের সমর্থকরা অবস্থান নিয়ে পিকেটিং শুরু করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় সন্দেহভাজন ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
সংঘর্ষে আহতদের মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মাগুরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাটিকাডাঙ্গা এলাকায় ভিজিএফের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নম্বর ৩২ ও ৩৩। ৩২ নম্বর মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০–২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে ৩৩ নম্বর মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন