
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় জাল এমবিবিএস সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে মাহামুদুল হাসান (স্বপন) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে তার তথাকথিত এমবিবিএস ডিগ্রির সনদ যাচাই-বাছাই করে তা ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসে নিজেকে অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয় দিতেন। গত প্রায় পাঁচ বছরে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ওই অর্থ দিয়ে নোয়াখালী অঞ্চলে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহামুদুল হাসানের কোনো বৈধ বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর নেই। অথচ তিনি এমবিবিএস ডাক্তার দাবি করে রোগী দেখতেন। এমনকি অন্য এক চিকিৎসকের নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার এমবিবিএস সনদটি ঢাকার নীলক্ষেত থেকে তৈরি করা ভুয়া কাগজপত্র বলে প্রমাণ মিলেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তিনি সিজারিয়ান অপারেশন, আল্ট্রাসনোগ্রাম, হৃদরোগ, লিভার, কিডনি ও হাড়ভাঙাসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা দিতেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের বাইরে বড় হাসপাতালে না গিয়ে তার কাছেই চিকিৎসা নিতে প্রলুব্ধ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৯ সালে শরণখোলায় এসে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে চাকরি নেন তিনি। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক অভিযানে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের মালিক তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করলে তিনি দুই মাস কারাভোগ করেন বলেও জানা গেছে। তবে জেল থেকে বেরিয়ে আবারও একইভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান ও দুদকের সমন্বয়ে তার চেম্বারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের খবর পেয়ে তিনি কৌশলে সটকে পড়েন। পরে তার চেম্বার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, মাহামুদুল হাসান কোনো স্বীকৃত চিকিৎসক নন। তার এমবিবিএস সনদ ভুয়া এবং বিএমডিসির কোনো বৈধ নিবন্ধন নেই। তিনি দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। জনগণকে তার কাছ থেকে চিকিৎসা না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন