
রাজশাহী নগরীতে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এ ঘটনায় নগরজুড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন হরগ্রাম এলাকায়। অভিযুক্তের নাম আহাদুজ্জামান নাজিম। তিনি ওই এলাকার একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক এবং রাজশাহীর একটি ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে কোচিং সেন্টারে পাঠদান চলাকালে একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। এক পর্যায়ে ছাত্রী চিৎকার শুরু করলে বিষয়টি আশপাশের লোকজনের নজরে আসে। দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, এটি প্রথম ঘটনা নয়। তাদের দাবি, এর আগেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। তবে সে সময় বিষয়টি সেভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হওয়ায় আবারও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরহাদ আলী জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে আটক রাখা হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর কোচিং সেন্টার এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ উপস্থিতি জোরদার করে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষক সমাজের কেউ এমন অপরাধে জড়িত হলে তা পুরো সমাজের জন্য লজ্জাজনক। তারা কোচিং সেন্টারসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, কঠোর নজরদারি এবং নৈতিকতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ রাজশাহীর সচেতন নাগরিকরা।
মন্তব্য করুন