
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা এলাকায় আকস্মিক ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে জনজীবন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিটের দিকে অনুভূত হওয়া এ কম্পনের ফলে উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মেছেরশাহ মাজার-এর প্রধান প্রবেশদ্বারের একটি মিনারের উপরের অংশ ভেঙে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে হঠাৎ মাটি কাঁপতে শুরু করলে মোংলাসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট থেকে বের হয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন। ভূমিকম্পের সময় মাজারের প্রধান গেটের ওপর অবস্থিত পুরোনো মিনারটি বিকট শব্দে ধসে নিচে পড়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় মিনারের নিচে কেউ অবস্থান না করায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কম্পন শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মিনারটির উপরের অংশ ফেটে গিয়ে ভেঙে পড়ে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “হঠাৎ করেই মাটি দুলতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি মাজারের মিনারটি ভেঙে নিচে পড়ে গেল। আল্লাহর রহমতে বড় কোনো বিপদ হয়নি।”
ঘটনার পরপরই মাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে মাজার প্রাঙ্গণের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মাজার কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামো হওয়ায় ভূমিকম্পের তীব্রতায় মিনারটি টিকে থাকতে পারেনি। তারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে ভূমিকম্পের কম্পন মোংলা ছাড়াও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এ ঘটনায় অন্য কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মধ্যে পুরোনো স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো দ্রুত পরিদর্শন ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও আকস্মিক এ ঘটনায় এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন