
সুন্দরবনে বনদস্যুতা দমনের উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে যৌথ কম্বিং অভিযান। অভিযানে অংশ নিয়েছে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, র্যাব, নৌপুলিশ, পুলিশ ও বন বিভাগ। কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবন দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।
এর আগে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়া এলাকায় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জন জেলেকে অপহরণ করে দস্যু সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনী। অপহৃত জেলেরা সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি পল্লী ও নারিকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলে। তাদের মধ্যে রয়েছেন হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাসসহ আরও ২০ জন। জেলেদের পরিবার ও মহাজনরা জানিয়েছেন, বনদস্যুরা জনপ্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।
গত দেড় বছরে সুন্দরবনে অন্তত ২০টি বনদস্যু বাহিনী গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি এই দস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রশাসনের সঙ্গে ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যৌথ অভিযান শুরু হয়।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, “সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় জেলে-মহাজনরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। সরকারের নির্দেশে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান শুরু হয়েছে এবং দস্যু নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে।”
দুবলা চরের মহাজনরা জানিয়েছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা শুধু দিনের বেলা মাছ ধরছেন। যৌথ অভিযানের সুফল এখনও দেখা যায়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. নূর আলম শেখ বলেন, “যৌথ অভিযানকে শুধুমাত্র মহড়া হিসেবে নয়, বরং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় দস্যুরা সতর্ক হয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেবে।”
দুবলা ফিমারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “যৌথ বাহিনীর অভিযানকে স্বাগত জানাই। তবে গোপনে ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিযান চালাতে হবে, মহড়া দিয়ে সফলতা আসবে না। দস্যু নির্মূল করতে না পারলে মাছের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।”
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, “যে কোনো মূল্যে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে। জেলে ও বনজীবীদের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মন্তব্য করুন