
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি শূন্যতার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান থাকলেও একজন নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান না থাকায় উন্নয়ন ও জনসেবায় ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। এ প্রেক্ষাপটে মহেশপুরবাসীর একটি বড় অংশ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে তরফদার মাহামুদ তৌফিক (বিপু)-কে দেখতে চাচ্ছেন।
তরফদার মাহামুদ তৌফিক (বিপু) বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ঝিনাইদহ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তিনি একজন জনবান্ধব ও নিরহংকার মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুর—যার সীমানা যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সঙ্গে যুক্ত। মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সমৃদ্ধ এ উপজেলার পলিয়ানপুর গ্রামেই তরফদার মাহামুদ তৌফিকের ভিটেমাটি ও কৃষিজমি। তিনি ৭নং কাজীরবেড় ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পলিয়ানপুর গ্রামের মরহুম ফিরোজ আলী তরফদারের সন্তান। ছাত্রজীবনে যশোরের সরকারি এমএম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে যুবদলের রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি শহীদ মসিউর রহমান আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
স্থানীয় কৃষক বকুল বলেন, “বিপু ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান হলে কৃষকরা উপকৃত হবে।” যাদবপুর গার্লস স্কুলের শিক্ষক বাবুর মতে, “তিনি মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকেন, তাই নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন।” কালিপুরের ইসাহক আলী, গয়াসপুরের সাহাবুদ্দিন, নাটিমার প্রিন্স ও নেপা গ্রামের ফুল মিয়াসহ অনেকে তার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, একজন জনসেবক ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে বিপু উপজেলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
মহেশপুর উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৬৯ জন এবং মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৭৯ জন। কৃষিনির্ভর এ উপজেলায় মোট জমির পরিমাণ ৪৯,২১০ হেক্টরের বেশি, যার মধ্যে নীট ফসলি জমি ৪০,৪৮০ হেক্টর। সমবায় কার্যক্রমও এখানে উল্লেখযোগ্য—কৃষক, মৎস্যজীবী ও মহিলা সমবায় সমিতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে।
উপজেলায় ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২২টি দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার হার ৭৪.৬৬ শতাংশ। তরফদার মাহামুদ তৌফিক জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে শিক্ষার হার শতভাগে উন্নীত করা এবং নদী-খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো তার অগ্রাধিকার হবে।
সব মিলিয়ে, মহেশপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তরফদার মাহামুদ তৌফিক (বিপু)-কে ঘিরে একটি সুস্পষ্ট জনমত তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
মন্তব্য করুন