
রাজশাহীর পবা উপজেলার খোলাবোনা নিঝুমপল্লী এলাকার বাসিন্দা বাহারুল ইসলাম (৫০) হত্যা মামলার চার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দুড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। র্যাব-৫ ও র্যাব-১ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
শুক্রবার বিকেলে র্যাব-৫ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. মিলন মিলু (৫২), মো. সুমন (১৯), কাওছার হোসেন (২৫) ও মো. মিল্টন (৩০)। তারা সবাই রাজশাহীর পবা উপজেলার খোলাবোনা এলাকার বাসিন্দা এবং হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বাহারুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র হাসুয়া দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে আসামিরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, তারা গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দুড়া এলাকায় অবস্থান করছে।
নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৫ ও র্যাব-১ এর একটি যৌথ দল সেখানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরেই এ নৃশংস ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সহযোগী আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের পর চার আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রাজশাহীর দামকুড়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন