
রাজশাহীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েরদাড়া খ্রিস্টানপাড়া এলাকায় এক তরুণী দীর্ঘদিন ধরে বখাটেদের উত্যক্তি ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি গভীর রাতে দুই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি তার বাড়ির ছবি তুলায় পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভুক্তভোগী তরুণী প্রশাসনের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, গত আগস্ট মাস থেকে এলাকার কয়েকজন যুবক বিভিন্নভাবে তাকে বিরক্ত ও হুমকি প্রদান করছে। সেপ্টেম্বর মাসে ওই যুবকরা তার বাড়িতে ইট ছুড়ে মারার চেষ্টা করে। অক্টোবর থেকে একজন যুবক নিয়মিত তার নাম ধরে চিৎকার এবং অশ্লীল মন্তব্য করে, কখনও বিকেলে, কখনও সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাতে। এছাড়া বাড়ির পেছনের রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কিছু যুবক তার নাম উল্লেখ করে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় ডাক দেয়।
তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকবার অচেনা কণ্ঠে “আই লাভ ইউ”সহ বিভিন্ন অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করা হয়েছে। যদিও কিছু কণ্ঠ তিনি চিনতে পেরেছেন, সরাসরি কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে ২ মার্চ দিবাগত রাতে। রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে দুটি অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি একটি রিকশায় এসে তার বাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে থাকে। একজন বলে, “কোন বাড়িটা হবে?” অপরজন একটি বাড়ির দিকে ইঙ্গিত করে, “এই বাড়িটা।” পরে একজন ছবি তুলতে শুরু করলে পরিবারটি আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। তরুণী বাইরে এলে রিকশাটি দ্রুত সরে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিটি বাইপাস সড়কমুখী এই এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। পাশের একটি রাজনৈতিক দলের ক্লাবের যুবকেরা রাতের সময় আড্ডা ও মাদক সেবন করে এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী তরুণী প্রাইম ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল টেকনোলজির প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং আদিবাসী মাহলি সম্প্রদায়ের সদস্য। তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন।
তিনি প্রশাসনের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়রা ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসনকে এ ধরনের ঘটনায় তরুণী ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যুবকদের শিক্ষার পাশাপাশি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন