
বাংলাদেশে অনলাইনভিত্তিক আর্থিক প্রতারণা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস—বিশেষ করে bKash ও Nagad—ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে নতুন নতুন কৌশলে সক্রিয় হচ্ছে প্রতারক চক্র। সম্প্রতি “XMG ইমেজিং কোম্পানি” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যুবক-যুবতী এবং প্রবাসীদের টার্গেট করত। বিদেশি ও দেশীয় সিম ব্যবহার করে WhatsApp ও Telegram-এ গ্রুপ খুলে “ঘরে বসে মোটা অংকের আয়”–এর প্রলোভন দেখানো হতো। প্রথমদিকে স্বল্প অংকের ডিপোজিট নিয়ে কিছুদিন নিয়মিত ‘লাভ’ প্রদান করে আস্থা অর্জন করা হতো। পরে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করলেই হঠাৎ ওয়েবসাইট অকার্যকর হয়ে যেত এবং সংশ্লিষ্ট অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে যেত চক্রটি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু বিনিয়োগ প্রতারণাই নয়—ওটিপি (OTP) সংগ্রহ এবং ডিভাইস হ্যাকিংয়ের মাধ্যমেও অনেকের bKash ও Nagad অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রতারকরা বিভিন্ন কৌশলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিত বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় কোম্পানির নামে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে অফিস পরিচালনা করা হলেও কোনো সরকারি নিবন্ধন বা বৈধ কাগজপত্র ছিল না। স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছু আইটি-দক্ষ ব্যক্তির সহায়তায় একটি সফটওয়্যার ও ওয়েবসাইট পরিচালিত হতো, যার মাধ্যমে লেনদেন ও তথাকথিত ‘লাভ’ প্রদর্শন করা হতো।
এ ঘটনায় কয়েকজন ব্যক্তির নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. আব্দুল্লাহ সরকার (চাটমোহর, পাবনা), হাসিনুর (প্রবাসী, ভাঙ্গুড়া, পাবনা) এবং রিয়াজুল (ভাঙ্গুড়া, পাবনা)। অভিযোগ রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক অনলাইনভিত্তিক স্কিম পরিচালনা করে আসছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী—যাদের মধ্যে রমজান আলী, মোহাম্মদ জয় ও বিবি মরিয়মের নাম উল্লেখযোগ্য—দাবি করেছেন, তারা বড় অংকের আমানত হারিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতারণার শিকার হওয়ার পর যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেয় চক্রটি।
ক্ষতিগ্রস্তদের একটাই দাবি—অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অপরিচিত কারও সঙ্গে কখনোই OTP শেয়ার করা যাবে না এবং “নিশ্চিত লাভ” বা “ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ”–এর প্রলোভনে অর্থ লেনদেনের আগে প্রতিষ্ঠানের সরকারি নিবন্ধন যাচাই করা জরুরি। সন্দেহজনক লেনদেন হলে দ্রুত সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা নিকটস্থ থানায় অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন