
চট্টগ্রাম মহানগরীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’-এর কথিত নেটওয়ার্কে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। বিশেষ অভিযানে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, ৮৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বিভিন্ন সরঞ্জামসহ দুই অনুসারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার চালিতাতলী বাজার সংলগ্ন আমিন উল্লাহ হাজী বাড়িতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, আলোচিত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা ওই বাড়িতে অবস্থান করছে এবং সেখানে অস্ত্র ও মাদক মজুদ রয়েছে।
অভিযানে গ্রেপ্তার হন ওয়াজেদিয়া এলাকার মোহাম্মদ ইসতিয়াক হাসান ইমন (২৬) এবং একই এলাকার মো. জসিম (৩৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বড় সাজ্জাদ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে কি না—এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জাম একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় তৎপরতার ইঙ্গিত দেয় বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ১টি বিদেশি এসএমজি (ম্যাগাজিনসহ), ১টি দেশীয় পাইপগান, ৪৫৫ রাউন্ড তাজা পিস্তলের গুলি, ১৪টি শর্টগানের কার্তুজ ও ১টি খালি কার্তুজ। এছাড়া ৮৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, চাপাতি, রামদা, ছোরা ও কাঁচিসহ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয়েছে ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ২টি বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, অস্ত্রের কিট বক্স, স্প্রে কিট, ড্রিল মেশিন, পলিথিন সিল মেশিন এবং একটি মোটরসাইকেল।
অভিযান চলাকালে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে দাবি করে সিএমপি। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়। ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না—তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় বড় সাজ্জাদের ভাইয়ের ছেলে মোহাম্মদ ও কেস ইকবালসহ আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
চট্টগ্রামে বড় সাজ্জাদ নেটওয়ার্কবিরোধী এই অভিযানে একদিকে যেমন বিপুল অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান মিলেছে, অন্যদিকে ইয়াবা ব্যবসার বিস্তৃত চক্রের উপস্থিতিও সামনে এসেছে। নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এই নেটওয়ার্কের পেছনে আর কারা জড়িত? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হতে পারে।
মন্তব্য করুন