
দীর্ঘ প্রায় তিন সপ্তাহ দস্যুদের জিম্মি থাকার পর অবশেষে মুক্তিপণের মাধ্যমে সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকা থেকে ফিরে এসেছেন ১৪ জন জেলে। তবে এখনও অন্তত ১২ জন জেলে দস্যুদের কবলে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহাজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাটছে না।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল দিকে মুক্তি পাওয়া জেলেরা নিজ নিজ চরে পৌঁছান। তারা জানান, দস্যুদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধের পরই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রত্যেকের জন্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। এ অর্থ জেলেদের স্বজন ও সংশ্লিষ্ট মহাজনদের মাধ্যমে জোগাড় করা হয়।
ফিরে আসা জেলেরা নারিকেলবাড়িয়া ও শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ীদের অধীনে কাজ করতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে এক অডিও বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এখনও দুই মহাজনের অধীন আরও ১২ জন জেলে দস্যুদের হাতে আটক রয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে। সে সময় শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ছয় জেলেকে তুলে নেয় একটি দস্যু দল। এর কয়েকদিন পর, ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় আরও একটি দস্যু চক্র ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় উপকূলীয় জেলে পল্লীগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে মুক্তি পাওয়া ১৪ জনের বাইরে আলোরকোল এলাকার রফিকুল ও খালেক নামের দুই মহাজনের অধীনে কর্মরত আরও ১২ জন জেলে জিম্মি রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন। অনেকেই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দুবলার চর এলাকায় বন বিভাগের বিশেষ টহল ফাঁড়ির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দস্যুরা চাহিদামতো অর্থ না পেলে আবারও শুঁটকি পল্লীতে হামলা ও অপহরণের হুমকি দিচ্ছে। ফলে শুঁটকি মৌসুমে কাজ করা জেলেদের মধ্যে নতুন করে ভীতি তৈরি হয়েছে।
যদিও উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে, তবুও স্থানীয়দের দাবি—কিছু দুর্গম এলাকায় দস্যুদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় আরও জোরদার নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ পরিস্থিতিতে জিম্মি থাকা জেলেদের দ্রুত উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাদের পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
মন্তব্য করুন