
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিসহ দুইজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে ইয়াবা, ফেন্সিডিল এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সকাল ৮টা ১০ মিনিট পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার কৃষ্ণগোবিন্দপুর পাঠানপাড়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের কৃষ্ণগোবিন্দপুর পাঠানপাড়া গ্রামের মৃত সোলেমান মণ্ডল ওরফে কালুর ছেলে মো. আরিফ আলী ওরফে আরিফ পাঠান (৪৫) এবং তার স্ত্রী মোসা. বেবী বেগম (৪০)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আরিফ আলী ওরফে আরিফ পাঠান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের করা একটি মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। কিন্তু রায়ের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। বিভিন্ন সময় তিনি আত্মগোপনে থেকে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির টাস্কফোর্স তার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী বেবী বেগমকেও আটক করা হয়।
অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে ১১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০০ মিলিলিটার ফেন্সিডিল এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ হিসেবে বাংলাদেশি বিভিন্ন মূল্যমানের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক ও নগদ অর্থ জব্দ করে ডিএনসি।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে গ্রেফতারকৃত আরিফ আলীর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডিএনসি সূত্রে আরও জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন