
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের ওই দল কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের শ্যামাইকান্দি এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে অভিযানের সময় তাদের আরও দুই সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন কুলিয়ারচর উপজেলার শ্যামাইকান্দি এলাকার মৃত তেলুমিয়ার স্ত্রী জোসনা বেগম (৬০) এবং পার্শ্ববর্তী ভৈরব উপজেলার শ্রীমতিচর এলাকার কালু গাজীর ছেলে মো. জাদু মিয়া (৪৬)। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন নবী মিয়া ও মামুন মিয়া।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় জোসনা বেগমের বসতঘর তল্লাশি করে এবং জাদু মিয়ার হেফাজতে থাকা একটি তিন চাকার অটোরিকশা তল্লাশি চালিয়ে মোট ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ওই অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে এনে কুলিয়ারচরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে আসছিলেন। একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তারা এই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। কুলিয়ারচর উপজেলায় মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এছাড়া এ ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।”
পুলিশের এ অভিযানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকবিরোধী এমন অভিযানের প্রশংসা করেছেন এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের আরও কঠোর ভূমিকা কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন