
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় গণহত্যা দিবস এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ সালেক মুহিদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জাতির ইতিহাসে গণহত্যা দিবস ও মহান স্বাধীনতা দিবস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীন মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম জোয়ার্দার, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমান মোল্লা, যুদ্ধকালীন কমান্ডার শফিউদ্দিন জোয়ার্দার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শিকদার মঞ্জুর আলম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি আবদুল কুদ্দুস।
এছাড়াও বক্তব্য দেন শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ড. মুসাফির নজরুল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মামুন খান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল গণি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রশিদ, খামারপাড়া এসএআই আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. কাওসার আলী এবং শ্রীপুর শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক আশরাফ হোসেন পল্টু।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মুন্সি জাহাঙ্গীর হোসেন, যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদ, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুন্সি ইয়াসিন আলী সোহেল, সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মালেকসহ উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় দিন। এ দিবসগুলো পালনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, গণহত্যা দিবস ও মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শ্রীপুর উপজেলায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুচকাওয়াজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব কর্মসূচি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংগঠনকে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও সভায় আলোচনা করা হয়।
সভা শেষে উপস্থিত সবাই গণহত্যা দিবস এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন