
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় মর্মান্তিক এক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার পর একই অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাতের এই নৃশংস ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জয় সরকারের (২৭) স্ত্রী বৃষ্টি সরকার (২২) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা জিনিয়া সরকার। জয় সরকার উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সরকারের ছেলে। তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আত্রাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাজুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতের খাবার শেষে জয় সরকার তার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে নিজ বাড়ির ঘরে ঘুমাতে যান। গভীর রাতে কোনো এক সময় পারিবারিক কলহ বা অজ্ঞাত কারণে তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। পরে একই ছুরি দিয়ে নিজের শরীরেও আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় জয়কে উদ্ধার করে প্রথমে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে খবর পেয়ে আত্রাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত মা ও শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, জয় সরকার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন বলে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রচলিত ছিল। মাদকাসক্তির কারণে তিনি প্রায়ই বেপরোয়া আচরণ করতেন এবং পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি করতেন। অনেক সময় স্ত্রীকে নিয়ে তার মধ্যে বিরোধ দেখা দিত বলেও জানান তারা।
স্থানীয়দের মতে, মাদকাসক্তি ও নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপন একটি পরিবারের জন্য কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ। তাদের দাবি, মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করা যায়।
আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় জয় সরকারকে হাসপাতালে আনা হলে তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
মন্তব্য করুন