
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় জ্বালানি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একমাত্র পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা পৌর বাজার এলাকায় অবস্থিত প্রপান ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল আরোহীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেলের পর থেকেই মোটরসাইকেল চালকরা একের পর এক পাম্পে এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। পাম্পের সামনে কয়েক শ মিটার দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেকেই বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রত্যেক মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ দুই লিটার করে পেট্রোল অথবা অকটেন দিচ্ছেন।
স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে—এমন খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই কারণে অনেকেই আগেভাগে জ্বালানি সংগ্রহ করে রাখার চেষ্টা করছেন।
একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, “শুনছি সামনে জ্বালানির সংকট হতে পারে। তাই আগে থেকেই একটু পেট্রোল নিয়ে রাখছি, যেন হঠাৎ সমস্যা হলে বিপদে না পড়তে হয়।”
প্রপান ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বশীলরা জানান, বর্তমানে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ থাকলেও ডিজেলের মজুদ তুলনামূলক কম। ফলে ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সব গ্রাহককে চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিতরণ করছেন।
পাম্প কর্তৃপক্ষ আরও জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে কেউ যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি সংগ্রহ করতে চান, তাহলে সাময়িকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের গুঞ্জনের কারণে মানুষ আগেভাগে জ্বালানি সংগ্রহে ঝুঁকছেন। তবে তারা মনে করেন, এ বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রচার করা হলে অযথা আতঙ্ক কমে আসবে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সংকটের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন