
নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শালবাড়ি গ্রামের এক সময় অনাবাদি মনে করা জমি এখন পরিণত হয়েছে একটি সমৃদ্ধ আম বাগানে। শালবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এই জমি দীর্ঘ সময় কৃষির জন্য অনুপযোগী বলে ধরা হতো। শক্ত এঁটেল মাটির কারণে সেখানে ফসল উৎপাদন প্রায় অসম্ভব মনে হতো।
কিন্তু জমির মালিক মোহাম্মদ মনোয়ারুল ইসলাম চন্দন দেখলেন সম্ভাবনা। তিনি বিশ্বাস করতেন, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করলে অনুৎপাদনশীল জমিকেও লাভজনক করা সম্ভব। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি জমি গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন।
প্রথমেই তিনি মাটির গুণগত মান উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। প্রচুর পরিমাণে জৈব সার প্রয়োগ, মাটি প্রস্তুত করা এবং পরিবেশ উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জমিটি ফলনমুখী করার জন্য কঠোর পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করেন। এরপর ধাপে ধাপে আমের চারা রোপণ শুরু করেন। শুরুতে অনেকেই তার উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও চন্দন তার লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে যাননি।
নিয়মিত গাছের পরিচর্যা, সঠিক সার প্রয়োগ, পর্যাপ্ত সেচ ও রোগবালাই দমন করে তিনি ধীরে ধীরে বাগানকে সুষমভাবে গড়ে তোলেন। কয়েক বছরের পরিশ্রমের পর গাছগুলো বড় হতে শুরু করে এবং সবুজে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমের ফলনও আসে। বাগানের ভালো ফলন স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়, যা এলাকায় পরিচিতি বৃদ্ধি করেছে।
বর্তমানে মনোয়ারুল ইসলাম চন্দন একজন সফল ও স্বাবলম্বী আম চাষি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার সাফল্য শুধু তার নিজের জীবন নয়, আশেপাশের কৃষকদের মধ্যেও কৃষিতে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনেকে এখন তার বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ফল চাষে ঝুঁকছেন।
চন্দন মনে করেন, কৃষিতে সফল হতে হলে ধৈর্য, সঠিক পরিকল্পনা এবং নিয়মিত পরিচর্যা অপরিহার্য। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করলে অনুৎপাদনশীল জমিকেও লাভজনক সম্পদে পরিণত করা যায়।
আজকের দিনে, একসময়ের অনাবাদি জমি এখন দৃষ্টিনন্দন আম বাগান। মনোয়ারুল ইসলাম চন্দনের কঠোর পরিশ্রম, দূরদৃষ্টি এবং সাহসী উদ্যোগ প্রমাণ করেছে—ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। তার এই সাফল্যের গল্প নিয়ামতপুরসহ নওগাঁ জেলার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভবনারদিয়েছে।
মন্তব্য করুন