
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর পৌর এলাকায় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে একটি অসহায় দম্পতিকে নিজ বসতভিটায় কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী দম্পতির দাবি, তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন জমিতে বসবাস করলেও চারপাশে বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় তারা বর্তমানে চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি দেশের সুনামধন্য দৈনিক পত্রিকায় কাজ করেছেন এবং স্থানীয় একটি প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজেকে প্রভাবশালী সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপট দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সাংবাদিকতার পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি তাদের বসতভিটার চারপাশে বেড়া দিয়ে দিয়েছেন, যার ফলে পরিবারটি তাদের নিজ জমিতে থেকেও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে না।
ভুক্তভোগী দম্পতি জানান, বহু কষ্টে সঞ্চয় করে তারা ওই জমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করেন। কিন্তু বর্তমানে তারা নিজেদের ঘরেই অবরুদ্ধ অবস্থায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, “আমরা আমাদের নিজের টাকায় কেনা জমিতে ঘর করেছি। অথচ আজ সেখানে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছি না। চারদিকে বেড়া দিয়ে আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের ঘরেই যেন বন্দি হয়ে আছি। এমনকি বাইরে যেতে হলেও অন্যের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।”
দম্পতির অভিযোগ, এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তারা একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা। তাদের ধারণা, অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রভাবের কারণেই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে না।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অনেকেই বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, “সাংবাদিকরা সাধারণত অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করেন। কিন্তু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেই যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পুরো সাংবাদিকতা পেশার জন্যই বিব্রতকর।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায়বিচারের আশায় জেলা প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঘটনার প্রকৃত অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন