
নড়াইলে পৃথক দুটি ঘটনায় এক শিশু নিহত ও এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জেলার কালিয়া উপজেলায় ট্রলির ধাক্কায় তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে লোহাগড়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। দুটি ঘটনাতেই পুলিশ আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে।
জানা গেছে, রোববার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি ইউনিয়নের কালডাঙ্গা গ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় লিমন নামে তিন বছরের এক শিশু নিহত হয়। নিহত লিমন ওই গ্রামের কৃষক ইকরামুল ফকিরের ছেলে। দুই সন্তানের মধ্যে সে ছিল পরিবারের ছোট সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্রামের একটি সড়ক দিয়ে একটি ট্রলি চলাচল করছিল। এ সময় রাস্তায় অবস্থান করা শিশু লিমনকে ধাক্কা দেয় ট্রলিটি। এতে লিমনের মাথা, নাক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল আলম জানান, দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমাইয়া বেগম (১৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শুলটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমাইয়া একই উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই ধানাইড় গ্রামের মো. ফরিদ ভূইয়ার মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়ার সঙ্গে শুলটিয়া গ্রামের ফসিয়ার শেখের ছেলে ইয়ামিন শেখের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবা ফরিদ ভূইয়া অভিযোগ করে বলেন, শনিবার রাতে তার মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে তাদেরকে আগে কোনো খবর দেওয়া হয়নি। অন্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা সেখানে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানায় যে সুমাইয়ার শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল এবং ওষুধ খাওয়ানোর সময় তা গলায় আটকে গিয়ে সে মারা যায়। তবে তার মেয়ের শ্বাসকষ্টের কোনো সমস্যা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া সুমাইয়ার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে সুমাইয়ার স্বামী ইয়ামিন শেখ হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রীর শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল এবং শনিবার রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে ওষুধ দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যেও ঘটনাগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন