
ঢাকার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের মেইটকা এলাকায় জমি দখলের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জমির প্রকৃত মালিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। কেরানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বিল্লাল এবং তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে জমি দখলের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন জমির প্রকৃত মালিক আখতার হোসেন। তিনি জানান, মেইটকা এলাকায় অবস্থিত তার মালিকানাধীন জমিটি তিনি সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়ায় বেলায়েত হোসেন বিল্লালের কাছে বিক্রি করেছেন। জমি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ সম্পন্ন করে আইনগত নিয়ম মেনেই লেনদেন করা হয়েছে।
আখতার হোসেন বলেন, “আমি আমার মালিকানাধীন জমি স্বেচ্ছায় এবং আইনগত প্রক্রিয়া মেনে বেলায়েত হোসেন বিল্লালের কাছে বিক্রি করেছি। এখানে জোরপূর্বক জমি দখলের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। অথচ একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি প্রতিপক্ষের কাছে ওই জমি–সংক্রান্ত কোনো বৈধ দলিল বা আইনি প্রমাণ থাকে, তাহলে তারা তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে পারে। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হলে তা আমাদের জন্য মানহানিকর। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”
এ ঘটনায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আখতার হোসেন বলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে করে অযথা বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানো বন্ধ হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুবদলের এই দুই নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমি বিক্রির বিষয়টি মূলত জমির মালিক ও ক্রেতার পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে জোরপূর্বক দখলের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তারা দাবি করেন।
এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি তারা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন