
মাদারীপুর সদর উপজেলায় শ্বশুরের যৌন ও শারীরিক নির্যাতন সইতে না পেরে সাথী (২২) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ মার্চ) সকালে উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের উত্তর মহিষেরচর গ্রাম থেকে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শ্বশুর গোলাম বেপারীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।
নিহত সাথী একই এলাকার অহিদুল খানের মেয়ে। কিছুদিন আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে পাঁচখোলা ইউনিয়নের কাইয়ুম বেপারীকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের কিছুদিন পরই কাইয়ুম বেপারী ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়ে লিবিয়ায় চলে যান। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সাথীকে প্রায়ই তার শ্বশুর গোলাম বেপারী শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সাথীকে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্নভাবে চাপ ও নির্যাতন করা হচ্ছিল। মৃত্যুর আগের দিনও তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে সাথীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর জানাজানি হওয়ার পরপরই শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গোলাম বেপারী দীর্ঘদিন ধরে পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। তাদের অভিযোগ, শ্বশুরের যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের কারণেই সাথী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে নিহত সাথীর শ্বশুর গোলাম বেপারীর বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন