
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় কিশোর অটোরিকশাচালক মো. মাসুম ওরফে বাবু (১৪) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত থেকে রোববার (৮ মার্চ) ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১১ এর সিপিসি-৩, নোয়াখালী ক্যাম্প এবং জেলা পুলিশের যৌথ দল। অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চাটখিল উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের জালাল আহম্মেদের ছেলে মো. রাজু (৩৫), একই গ্রামের আলী আরশাদের ছেলে মো. রুবেল ওরফে কানা রুবেল (৩২) এবং সুন্দরপুর গ্রামের মো. মাহাবুবের ছেলে মো. মুন্না (৩৫)।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চাটখিল উপজেলার দশানী টবগা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন কিশোর চালক মাসুম। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে তার পরিবার বিষয়টি চাটখিল থানায় জানায় এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করে।
নিখোঁজ হওয়ার পরদিন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে উপজেলার ছোট জীবনগর এলাকার ওহাব তৈয়বা মেমোরিয়াল হাসপাতালের পশ্চিম পাশে একটি সেতুর নিচে মাসুমের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। তবে অটোরিকশাটির ব্যাটারি খুলে নেওয়া ছিল। ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় তখন থেকেই অপহরণ ও হত্যার আশঙ্কা দেখা দেয়।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে চাটখিল উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের একটি মাছের প্রজেক্ট সংলগ্ন জঙ্গল থেকে স্থানীয়রা একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহত মাসুমের পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার চাটখিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার পর তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে অভিযান চালায়।
অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে চাটখিল পৌরসভা এলাকা থেকে প্রথমে মো. রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হটপুকুরিয়া বাজার এলাকা থেকে মুন্নাকে আটক করা হয়। এরপর রাত ২টা ১০ মিনিটে ধর্মপুর ছিলার দিঘীর পাড় এলাকা থেকে রুবেল ওরফে কানা রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের চাটখিল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত অভিযানে জড়িতদের গ্রেপ্তার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন