
নড়াইলের সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রনতোষ কুমার সেনের বিরুদ্ধে এক তদন্ত প্রতিবেদনে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা দীপিকা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বিনা অনুমতিতে বিদেশ গমনের তথ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁর তদন্ত প্রতিবেদনে ‘সত্যতা মেলেনি’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা দীপিকা বিশ্বাস সরকারি চাকরিজীবী হয়েও পাসপোর্টে পেশার তথ্য গোপন করে ‘গৃহিণী’ উল্লেখ করে অবৈধভাবে পাসপোর্ট তৈরি করেন এবং কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন ভারতে যাতায়াত করেছেন।
পাসপোর্টের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দীপিকা বিশ্বাস ‘বি এল ০৪৬১৯##’ নম্বরের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ২০১৭ সালের ১২-১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ সালের ২৪ মে-৭ জুন, ১৬-২৪ অক্টোবর, ২০১৯ সালের ১০ মে-১২ জুন ও ২০-৩০ ডিসেম্বর ভারতে যাতায়াত করেন। পরে ওই পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে ২০২১ সালে তিনি ‘এ ০১০৯৫৭##’ নম্বরের নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন এবং ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল-১০ মে, ২৩-৩১ ডিসেম্বর ও ২০২৩ সালের ২১ জুন-৮ জুলাই পর্যন্ত ভারতে যাতায়াত করেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হলে তিনি নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।
ইতিপূর্বে এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে বিগত ২৪ সালের ১০ জানুয়ারি সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রনতোষ কুমার সেন তদন্ত করে ৪ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে অবৈধভাবে পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বিনা অনুমতিতে বিদেশ গমনের তথ্য থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে ‘সত্যতা মেলেনি’ মর্মে মন্তব্য করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, “সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রনতোষ কুমার সেন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দোষী ব্যক্তিকে নির্দোষ ও নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষী করার অসংখ্য নজির রয়েছে। এই কর্মকর্তার দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রনতোষ কুমার সেনের কাছে তদন্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি তার ছুটির বিষয়ে তদন্ত করেছি। পেশা গৃহিণী দিয়ে অবৈধভাবে পাসপোর্ট গ্রহণের তদন্ত করা হয়নি। প্রয়োজনে আবার তদন্ত করা হবে।”
এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসনের নজর এনেছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীজন ও শিক্ষক মহল।
মন্তব্য করুন