
দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে যাচ্ছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ১নং লোগাং ইউনিয়নের শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দমন–পীড়ন, অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকা এই কার্যালয়টি নতুন করে সংস্কার ও সচল করার উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকারের সময় টানা দমন–পীড়নের কারণে লোগাং ইউনিয়নে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ব্যাহত ছিল। এর ফলে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কার্যালয়টি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কার্যালয়টি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
সম্প্রতি লোগাং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আইনুল হোসেন ও ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাশরাফি (জীবন)-এর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কার্যালয়টি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিনের অগোছালো পরিবেশ সরিয়ে নতুনভাবে সাজানোর পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু করেছেন। এ উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
সংস্কার কার্যক্রম চলাকালে উপস্থিত থেকে পানছড়ি উপজেলা বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মো. মিলন মিয়া বলেন,
“দীর্ঘদিন পর দলীয় কার্যালয়কে আবার সচল করার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি শুধু একটি ভবন সংস্কার নয়, বরং সংগঠনের ঐক্য ও শক্তি পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
লোগাং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল জলিল এই উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কার্যালয়টি লোগাং ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের একটি ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র। এর পুনরুজ্জীবন দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল পাশা উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী ও দূরদর্শী আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই কার্যালয়টি আবার চালু হলে ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।”
স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হলে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কার্যালয়টি আবারও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে। একই সঙ্গে এটি লোগাং ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।
মন্তব্য করুন