
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গিলাতলা গ্রামে চলাচলের রাস্তা কেটে সরকারি খাল দখল ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার (৯ মার্চ) সকালে উপজেলার গিলাতলা কলেজের দক্ষিণ পাশের একটি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ঘটে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গিলাতলা গ্রামের মৃত মল্লিক নূর মোহাম্মদের স্ত্রী মর্জিনা বেগম অভিযোগ করেন যে, একই এলাকার আবু তাহের মল্লিক, মতি শেখ ও মাসুম মীর মিলে স্থানীয় নোনা পুকুর খালের পাশে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের রাস্তা কেটে তা মাছের ঘেরের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছেন। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি নোনা পুকুর খালটি দখল করে সেখানে মাছ চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি তারা ওই খাল সংলগ্ন জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে রাস্তা কেটে খালের সঙ্গে যুক্ত করেন। এতে করে শুধু চলাচলের পথই বন্ধ হয়নি, বরং আশপাশের কয়েকটি পরিবারের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মর্জিনা বেগম দাবি করেন, তাদের পারিবারিক জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক ওই জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছে। এতে জমির প্রকৃত মালিকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। পাশাপাশি এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচলও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে রাস্তা কেটে ফেলার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন মতি শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জমিটি আবু তাহের ও আমাদের মালিকানাধীন। নোনা খালটি জমাভুক্ত খাল, এটি সরকারি খাল নয়।” তবে রাস্তা কেটে খালের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং সরকারি খাল বা জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা অবৈধভাবে দখল বা ক্ষতিগ্রস্ত করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে করে এলাকার মানুষের ভোগান্তি দূর হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন